ঈদের আগে রেমিট্যান্স এলো ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা

প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

করোনা মহামারির মধ্যেও রেমিট্যান্স পাঠানো অব্যাহত রেখেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চলতি জুলাই মাসের প্রথম ১৫ দিনে ১২৬ কোটি ৪২ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা) দেশে পাঠিয়েছেন রেমিট্যান্স যোদ্ধারা।

সোমবার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন রেমিট্যান্সের এ প্রবাহ অব্যাহত থাকলে মাস শেষে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় অর্জন করবে বাংলাদেশ।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদুল আজহার কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে বসবাসরত তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে বাড়তি অর্থ পাঠিয়েছেন। এছাড়া সরকারের নগদ ২ শতাংশ প্রণোদনা ও করোনায় বিদেশ ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণের কারণে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত থেকে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স বেশি আসছে। পাশাপাশি মহামারিতে এক ধরনের অনিশ্চয়তার কারণে প্রবাসীরা জমানো টাকা দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে।

করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ ঊর্ধ্বমুখী হয়। অবশ্য গত মার্চে তা অনেকটাই কমে আসে। তবে চলতি এপ্রিল মাসে আবারও এই প্রবাহ বেড়েছে। গত মার্চ মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯১ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১৯৬ কোটি ও ফেব্রুয়ারিতে ১৭৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, গত জুন মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১৯৪ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। ফলে সদ্য সমাপ্ত ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স আহরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৭৭ কোটি  ৭৭ লাখ ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় দুই লাখ ১০ হাজার ৬১০ কোটি টাকার বেশি। এটি আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। এর আগে কোনো অর্থবছরে এত পরিমাণ রেমিট্যান্স আসেনি বাংলাদেশে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে এক হাজার ৮২০ কোটি ডলার বা ১৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। অর্থবছর হিসাবে ওই অংক ছিল এর আগে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ। তারও আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স আহরণের রেকর্ড হয়। ওই সময় এক হাজার ৬৪২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স দেশে আসে।

এদিকে রেমিট্যান্সের প্রবাহ চাঙ্গা থাকায় ইতিবাচক অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। জুন মাস শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় চার হাজার ৬৪২ কোটি ডলার; প্রতি মাসে ৪ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় হিসেবে মজুদ এ বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে সাড়ে ১১ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। অর্থাৎ কোনো প্রবাসী ১০০ টাকা দেশে পাঠালে তার সঙ্গে আরও ২ টাকা যোগ করে মোট ১০২ টাকা পাচ্ছেন সুবিধাভোগী। এছাড়া ঈদ ও উৎসবে বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সরকারের প্রণোদনার সঙ্গে বাড়তি এক শতাংশ দেওয়ার অফার দিচ্ছে। এতে করে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহী হচ্ছেন প্রবাসীরা।