মোবাইল গ্রাহকদের তদারকির প্রযুক্তি পাচ্ছে বিটিআরসি

প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

রাজস্ব ফাঁকি রোধে মোবাইলফোন গ্রাহকদের তদারকির প্রযুক্তি কিনছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এজন্য ৭৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকার প্রযুক্তি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে এই ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। এই কমিটির বৈঠকে সাত হাজার কোটি টাকারও বেশি ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের ‘প্রকিউরমেন্ট অব ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট, সাপ্লাই, ইনস্টলেশন, টেস্টিং অ্যান্ড কমিশনিং অব টেলিকম মনিটরিং সিস্টেম ফর দ্য টেলিকম নেটওয়ার্কস সিস্টেমস অব বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় পণ্য ও সেবা কেনা হবে। ৭৭ কোটি ৬৫ লাখ ৩২ হাজার ৭৯৬ টাকায় কানাডার প্রতিষ্ঠান টিকেসি টেলিকম ইনকরপোরেশনের কাছ থেকে এই পণ্য ও সেবা কেনা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল রেগুলেটরি মনিটরিং ব্যবস্থা স্থাপনের লক্ষ্যেই এই ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট, সাপ্লাই, ইনস্টলেশন, টেস্টিং অ্যান্ড কমিশনিং অব টেলিকম মনিটরিং সিস্টেম স্থাপন করা হবে। আমরা মনে করি এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, এটি একটি ভালো প্রজেক্ট।’

পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো: সামসুল আরেফিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘টেলিফোন অপারেটররা যে রাজস্বটা আদায় করে সেক্ষেত্রে অনেক সময় সঠিক তথ্য নাও থাকতে পারে। এজন্য এই মনিটরিং সিস্টেমের মাধ্যমে শতভাগ রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে।’

রাজস্ব আদায়ে অনিয়ম রোধে এই তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে বলেও জানান অতিরিক্ত সচিব।

এদিকে ৭০৫৬ কোটি ৫৭ লাখ ৪১ হাজার ৩৫৫ টাকা ব্যয়ে ১০ ক্রয়প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি। তবে সভায় টেবিলে দু’টিসহ মোট ১২ প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে দু’টি প্রস্তাবের দরপত্র পুনঃমূল্যায়নের জন্য অনুমোদন চাওয়া হয়েছিল। প্রস্তাব দু’টিতে কোনো আর্থিক সংশ্লেষণ ছিল না।

অনুমোদন পাওয়া ক্রয়প্রস্তাবের বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, সভায় ‘শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় পাঁচ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের জন্য পাঁচ হাজার ইন্সট্রাক্টর টেবিল, পাঁচ হাজার ইন্সট্রাক্টর চেয়ার, ৮০ হাজার কম্পিউটার টেবিল, এবং এক লাখ ৬০ হাজার কম্পিউটার চেয়ার সংগ্রহ, সরবরাহ ও স্থাপনের জন্য সাতটি প্যাকেজে উন্মুক্ত দরপত্রপদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করা হলে ২৯টি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৮টি প্রতিষ্ঠান রেসপনসিভ হয়। এ জন্য মোট ব্যয় হবে ১০১ কোটি ২৮ লাখ চার হাজার ৩৬ টাকা। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন-২০১০’ (২০১৮ সনের সর্বশেষ সংশোধনীসহ)-এর আওতায় মাস্টার সেল অ্যান্ড পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (এমএসপিএ) স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মধ্য হতে কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় স্পট মার্কেট থেকে ১৬তম এলএনজি কার্গো আমদানির মাধ্যমে এলএনজি ক্রয়ের প্রত্যাশা অনুমোদন দেয়া হয়। প্রতি ইউনিটের দাম ১০ দশমিক ৯৯০০ ডলার হিসেবে মোট ব্যয় হবে ৩১৩ কোটি ৬৮ লাখ ৯৭ হাজার ৬৮০ টাকা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মেসার্স এক্সেলারেট এনার্জি এলপি এই এলএনজি সরবরাহ করবে।

সভায় জুলাই থেকে ডিসেম্বর, ২০২১ সময়ের জন্য আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে গ্যাস অয়েল (ডিজেল), জেটএ অয়েল (এভিয়েশন ফুয়েল), ফার্নেস অয়েল, মোগ্যাস (অকটেন) ও মেরিন ফুয়েল আমদানির জন্য জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। ৭টি প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বমোট ১২ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। এতে বাংলাদেশী মুদ্রায় পাঁচ হাজার ৭ শত ৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে।

সভায় ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের’ নির্মাণকাজের একটি প্যাকেজের চুক্তিপত্রের সাপ্লিমেন্টারি অ্যাগ্রিমেন্ট-১ এর ওপর সাপ্লিমেন্টারি অ্যাগ্রিমেন্ট-২ এর অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের’ ২৪ হাজার ৪৪৯ কোটি পাঁচ লাখ টাকার ক্রয়প্রস্তাব ২০/০৭/২০১৬ তারিখের সিসিজিপি অনুমোদিত হয়। পরবর্তীতে চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লি এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মধ্যে ২৪ হাজার ৪৪৯ কোটি পাঁচ লাখ টাকার কমার্শিয়াল কনট্রাক্ট অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়। এক্সিম ব্যাংক অব চায়না ঋণ চুক্তির কিছু শর্ত সাপ্লিমেন্টারি চুক্তি-১ সংযোজন করার পর ১৮/০৫/২০১৮ তারিখে ঋণচুক্তি কার্যকর হয়। পরবর্তীতে কমার্শিয়াল কনট্রাক্টের পার্টিকুলার কন্ডিশন অব কন্ট্রাক্ট (পিসিসি) এবং পেমেন্ট শিডিউলের মধ্যে কিছু অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হলে তা দূর করার জন্য প্রস্তাবিত সাপ্লিমেন্টারি অ্যাগ্রিমেন্ট-২ তে ৯টি পিসিসি ক্লজ পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হলে ক্রয় কমিটি তাতে অনুমোদন দিয়েছে।

সভায় বিআইডব্লিউটিসির জন্য তিনটি প্যাসেঞ্জার ক্রুজ ভেসেল নির্মাণ ও সরবরাহের ক্রয়প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এক ধাপ দুই খাম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করা হলে দু’টি দরপত্র জমা পড়ে। তার মধ্যে একটি কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত একমাত্র রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লি., চট্টগ্রামের কাছ থেকে ২৩১ কোটি ১৩ লাখ ৯৭ হাজার ৭২৬ টাকায় তিনটি প্যাসেঞ্জার ক্রুজ ভেসেল সরবরাহ ও নির্মাণকাজ ক্রয়ের প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় কমিটি।