১৯ জুন থেকে টিকাদান শুরু

যেভাবে ফাইজার-সিনোফার্ম টিকা দেয়ার পরিকল্পনা

প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

দেশে ফাইজার ও সিনোফার্মের টিকা একইসাথে দেয়া হবে আগামী সপ্তাহ থেকে। এমনটিই জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতর।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা: এ বি এম খুরশীদ আলম গণমাধ্যমকে জানান, আমরা আর একটা একটা করে দেব না। সব ধরনের টিকা দেয়ার কাজ একসাথে শুরু করা হবে আগামী সপ্তাহ থেকে। যিনি প্রথম ডোজ হিসেবে ফাইজার পাবেন তাকে দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে সেটাই দেয়া হবে। অন্য ধরনের টিকার ক্ষেত্রেও তাই।

তিনি বলেছেন, এক্ষেত্রে টিকা গ্রহীতার কোনো সিদ্ধান্ত থাকবে না। তাকে যে ধরনের টিকা দেয়া হবে সেটিই নিতে হবে। ফাইজারের টিকা সংরক্ষণে জটিলতার কারণে শুধু ঢাকাতেই কয়েকটি নির্ধারিত হাসপাতালে সেটি দেয়া হবে।

ডা: এ বি এম খুরশীদ আলম জানিয়েছেন, যারা নিবন্ধন করে ফেলেছেন কিন্তু প্রথম ডোজও পাননি তাদের ফাইজারের যে চালান এখন রয়েছে সেগুলো দেয়া হবে।

সিনোফার্মের টিকা পাচ্ছেন শুধু মেডিক্যাল শিক্ষার্থীরা। আর এর আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার জন্য কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চীনের সিনোফার্ম টিকা দেয়া হবে।

যারা অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রথম ডোজ পাওয়ার পর টিকার যোগান না থাকায় দ্বিতীয় ডোজ পাননি তাদের কোভ্যাক্স ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে সহায়তা হিসেবে যে টিকা আসবে সেগুলো দেয়া হবে। এগুলো শিগগিরই আসবে কি-না সেটি অবশ্য নিশ্চিত নয়।

বিভিন্ন ধরনের টিকায় পরিকল্পনার সমস্যা
খুরশীদ আলম বলছেন, বিভিন্ন সময়ে নানা সংখ্যায় তিন প্রকারের টিকার চালান আসার কারণে টিকা কর্মসূচি নিয়ে পরিকল্পনা করা একটা মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলছেন, ‘আমাদের বারবার টিকার হিসেব মেলাতে হচ্ছে, ডাবল, ট্রিপল চেক করতে হচ্ছে। যেহেতু বিভিন্ন লটে এসেছে তাই টিকার মেয়াদ সম্পর্কে আলাদা করে হিসেব রাখতে হচ্ছে।’

তিনি আরো জানিয়েছেন, টিকা সংরক্ষণে তাপমাত্রার ভিন্নতার কারণেও সমস্যা হচ্ছে। ফাইজারের টিকা মাইনাস ৭০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। এত কম তাপমাত্রায় টিকা সংরক্ষণের হিমাগার ঢাকার বাইরে নেই তাই শুধু ঢাকাতেই এটি দেয়া যাবে।

টিকা নিয়ে জটিলতা
যেগুলোর চালান এসেছে বিভিন্ন সংখ্যায়, বিভিন্ন সময়ে। প্রথম দফায় জানুয়ারির শেষের দিকে ভারত থেকে সিরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা আসা শুরু হয়।

ভারতের উপহার হিসেবে শুরুতে ২০ লাখ ডোজের চালান পৌঁছায়। এরপর বাংলাদেশ সরকারে কেনা সিরাম ইনস্টিটিউটের প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজসহ ৭০ লাখ ডোজ হাতে নিয়ে দেশব্যাপী টিকা কর্মসূচি শুরু হয় ফেব্রুয়ারির ৭ তারিখ থেকে। কিন্তু সিরাম ইনস্টিটিউট নতুন করে আর কোনো টিকা না পাঠানোর কারণে প্রথম ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকা নেয়ার পর সবার জন্যে দ্বিতীয় ডোজের যোগানে ঘাটতি দেখা দেয়।

মে মাসের শুরুতে প্রথম ডোজ টিকা দেয়া এবং টিকার জন্য নতুন নিবন্ধন স্থগিত করে দেয়া হয়।

প্রথম ডোজ গ্রহণকারী ১৪ লাখ মানুষ এখনো দ্বিতীয় ডোজ পাননি এবং কবে পাবেন তার নিশ্চয়তা এখনো নেই।

শুধুমাত্র একটি উৎস থেকে টিকা কেনার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল বলে সরকারকে বেশ সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।

এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়া ও চীন থেকে টিকা আনার জন্য চেষ্টা শুরু করে বাংলাদেশ।

কয়েক দিন আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে গঠিত টিকার আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্স কর্মসূচি থেকে ১০ লাখ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তিনি আরো জানিয়েছেন নিজেদের মজুদ থেকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা দেবে।

মে এবং জুন মাসে দুই দফায় চীনের কাছ থেকে সিনোফার্মের ১১ লাখ ডোজ টিকা এসেছে। জুনের শুরুতে এসেছে ফাইজারের ১ লাখ ডোজ।

সূত্র : বিবিসি