দুই কাসেমীর বহিষ্কারে জমিয়ত-হেফাজতমুক্ত বারিধারা মাদ্রাসা

প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র, সহিংস আন্দোলনের পরিকল্পনা ও মাদ্রাসার স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ বারিধারা মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন মুনীর হোসেন কাসেমী ও হাবীবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী। কওমি মাদ্রাসা অঙ্গনে ‘যড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে পরিচিত এই দুই কাসেমীর বহিষ্কারে মাদ্রাসাটির শিক্ষার পরিবেশ ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় রক্ষা পাবে বলে মনে করছেন অন্যান্য শিক্ষক ও সাধারণ ছাত্ররা।

মাওলানা নূর হোসেন কাসেমীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা বারিধারা মাদ্রাসা বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে অন্যতম। গত ১৩ ডিসেম্বর আল্লামা নূর হোসেন কাসেমীর মৃত্যুর পর মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা নাজমুল হাসান মুহতামিম হিসেবে মাদ্রাসা পরিচালনা করে আসছিলেন। 

কিন্তু গত ২৫ জানুয়ারি কওমি মাদ্রাসা জগতে ‘ষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে পরিচিত মাওলানা মুনীর হোসেন কাসেমী ও হাবীবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমীর ষড়যন্ত্রে নাজমুল হাসানকে মাদ্রাসা থেকে বিতাড়িত করা হয়। 

অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে বিভিন্ন চক্রের মাধ্যমে মুনীর হোসেন কাসেমী মুহতামিমের পদটি বাগিয়ে নেন। এ সময় তারা বারিধারা মাদ্রাসাকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও হেফাজতে ইসলামের অলিখিত অফিস হিসেবে ব্যবহার করে এবং সরকারবিরোধী বিভিন্ন চক্রান্তের জাল বুনেন। ফলে মাদ্রাসা শিক্ষার পরিবেশ ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয় এবং শিক্ষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে, সারাদেশে হেফাজত নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ-সহিংস কর্মসূচির ইন্ধনদাতা ও ক্রীড়ানক হিসেবে অভিযুক্ত হয়ে মুনীর হোসেন কাসেমী গত ২১ মে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। এরপর থেকে মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম এবং বারিধারা জামে মসজিদ ও ইসলামী রিসার্চ সেন্টারের ইমাম মাওলানা মাসউদ আহমেদ মাদ্রাসার সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করে আসছিলেন।

সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ৭ জুন মাদ্রাসার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পরিষদ শুরা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে মুনীর হোসেন কাসেমীর বিরুদ্ধে মাদ্রাসার স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়া, নিয়মকানুন মেনে না চলে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের বিরাগভাজন হওয়া, অনৈতিক/সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া ও বিভিন্ন অনভিপ্রেত কার্যকলাপে জড়িত থাকা, বিভিন্ন মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়াসহ মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিতির অভিযোগে মজলিসে শুরার সর্বসম্মতিক্রমে তাকে মুহতামিম পদসহ মাদ্রাসার সব পদ থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। 

পাশাপাশি একই অভিযোগে ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক হাবীবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমীকেও মাদ্রাসা থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।

শুরা কমিটির বৈঠকে বারিধারা মাদ্রাসার শূন্যতা সৃষ্টি হওয়ায় জামিয়ার নায়েবে মুহতামিম মাসউদ আহমেদকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করবেন বলে শুরা বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
 
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাসউদ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্ররা ফিরে এসে যেন লেখাপড়ার পূর্ণ পরিবেশ পায় সেটাই আমাদের লক্ষ্য, আমরা ইনশাআল্লাহ আগামীতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হতে দেব না, সুন্দর পরিবেশ করার জন্য আমরা বদ্ধপরিকর। কোনোভাবেই কোনো জামিয়া মাদ্রাসায় যেন লেখাপড়ার বিঘ্ন না ঘটে।  

মুনীর হোসেন কাসেমী ও হাবীবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী বহিষ্কারের মাধ্যমে বারিধারা মাদ্রাসা পুরোপুরি জমিয়ত ও হেফাজতের প্রভাবমুক্ত হয়েছে এবং মাদ্রাসার শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে এসেছে বলে শিক্ষক ও ছাত্ররা মনে করেন।