রাষ্ট্রপতির শোক

চলে গেলেন রাষ্ট্রপতির শিক্ষক ‘পি.কে.সি স্যার’

প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের শিক্ষক, কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ-সাহিত্যিক প্রফেসর প্রাণেশ কুমার চৌধুরী (৮১) পরলোকগমন করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ২টার দিকে ঢাকার সেগুনবাগিচায় ছেলের বাসায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন, দেশ-বিদেশে অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে।

তাঁর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় তিনি প্রয়াত প্রফেসর প্রাণেশ কুমার চৌধুরীর আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

‘পি.কে.সি স্যার’ নামে সমধিক পরিচিত প্রফেসর প্রাণেশ কুমার চৌধুরী ১৯৬৪ সালে গুরুদয়াল সরকারি কলেজে যোগদান করেন। তিনি ইংরেজি বিভাগের প্রধান হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ অধ্যাপনাকালে তিনি বহুক্ষেত্রে বহু কীর্তিমানকে ছাত্র হিসেবে পেয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদেরও শিক্ষক।

এছাড়া তিনি মননশীল-সৃজনশীল সাহিত্যচর্চায় আমৃত্যু নিমগ্ন থেকেছেন। ইংরেজি, ফরাসি, রুশ সাহিত্যের ওপর পাণ্ডিত্য অর্জনকারী প্রফেসর প্রাণেশ কুমার চৌধুরী কবিতা, ছোটগল্প, প্রবন্ধ রচনা ছাড়াও অনেক কবিতা ও ছোটগল্প অনুবাদ করেছেন। জাতীয় পর্যায়ের নেতৃস্থানীয় ইংরেজি ও বাংলা দৈনিক ও সাময়িকীতে তাঁর বহু রচনা প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি গুরুদয়াল সরকারি কলেজের চাকরি হতে অবসর গ্রহণের পর দীর্ঘদিন জেলা শহরসহ বিভিন্ন কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। সামাজিক জীবনে তিনি ছিলেন মিষ্টভাষী, বন্ধুবৎসল ও পরোপকারী। তিনি কিশোরগঞ্জ শহরের কালীবাড়ি মন্দির কমিটিসহ জেলার বিভিন্ন শিল্প-সাহিত্য, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নানামুখী কর্মকাণ্ডের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

ছাত্রাবস্থায় তিনি আনন্দমোহন কলেজ বার্ষিকী সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ হল ছাত্র-সংসদের সাহিত্য সম্পাদক হিসাবে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা ইতিহাস প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি মৃত্যু অবধি কিশোরগঞ্জ জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালে তিনি ১ম মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এছাড়া তিনি রাজেন্দ্র-আশালতা ফাউন্ডেশন সম্মাননায় ভূষিত হন। স্বকীয় কর্ম ও কীর্তির মাধ্যমে তিনি কিশোরগঞ্জের শিক্ষা-সংস্কৃতির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

করোনা মহামারীর কারণে প্রয়াত প্রফেসর প্রাণেশ কুমার চৌধুরীর মরদেহ কিশোরগঞ্জে আনা হবে না বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।

প্রয়াত প্রফেসর প্রাণেশ কুমার চৌধুরীর মৃত্যুতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট মো. কামরুল আহসান শাহজাহান, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এম এ আফজল, জেলা গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি এডভোকেট ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন, অধ্যক্ষ রবীন্দ্রনাথ চৌধুরী, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও পিপি এডভোকেট শাহ আজিজুল হক, জেলা সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি এডভোকেট অশোক সরকার, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

প্রফেসর চৌধুরী ২০১৫ সালে ১ম মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তার জীবন ও কর্মের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা বক্তৃতা প্রদান করেন ‘মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন’-এর নির্বাহী পরিচালক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনিয়র প্রফেসর ড. মাহফুজ পারভেজ, যা পুস্তিকা রূপে মুদ্রিত হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন শোক জানিয়েছে।