সিদ্ধিরগঞ্জের ৬নং ওয়ার্ড মাদকের স্বর্গরাজ্য, প্রকাশ্যেই কেনাবেচা

প্রতীকী

প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

মাদকে ছেয়ে গেছে নাসিকের সিদ্ধিরগঞ্জের ৬নং ওয়ার্ড। হাত বাড়ালেই সেখানে মিলছে মাদক। দিন-রাত প্রকাশ্যে-অপ্রকাশে মাদক বিক্রি হচ্ছে। এতে করে ক্রেতা-বিক্রেটার পদচারনা মুখরিত থাকে ওয়ার্ডের মাদক স্পটগুলো। দিন দিন মাদকের ছোবলে ওয়ার্ডে কিশোর-যুবসমাজ ধংসের দিকে ধাবিত হলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও থানা পুলিশ নির্বিকার। তারা যেন দেখেও না দেখার ভান করছেন।


বিশেষ করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের অসাধু কর্মকর্তাদের মাসোহারা দিয়ে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা বহাল তবিয়তে ব্যবসা করছে বলে অভিযোগ করেছেন ওয়ার্ডে সাধারণ মানুষ।

ওয়ার্ডের বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের তথ্য মতে, হান্নান প্রধান ওরফে ফেন্সী হান্নান ওরফে হাজেরা হান্নান। সিদ্ধিরগঞ্জের সুমিলপাড়া (মুনলাইট সিনেমা হলের পিছনে) মৃত ইউসুফ মিয়ার ছেলে। তার নেতৃত্বে নাসিক ৬নং ওয়ার্ডে এখন পর্যন্ত ২০টিরও বেশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী। হান্নান এলাকায় ফেন্সী, ইয়াবা, অবৈধ চোরাই তেল ব্যবসায়ী ও কিশোরগ্যাং লিডার হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় বিভিন্ন অপরাধে এক ডজনেরও বেশি মামলা রয়েছে।

হাজেরা হান্নান ছাড়াও নাসিক ৬ নং এলাকার অন্যতম মাদক ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান বাবু ওরফে ভাতিজা বাবু, নাহিদ, রফিকুল ইসলাম ইমন, বাত্তি মিজান, রুবেল, ডালিম, সানী, শাহ আলম, শাহিন, মানিকসহ আরো বেশ কয়েকজন। এ ওয়ার্ডের সুমিলপাড়া, চরশিমুল পাড়া, নতুন বাজার, বিহারী ক্যাম্প, এস রোড, মুনলাইট, বার্মাস্টান্ড সহ সকল অলিগলিতে মাদকের ব্যাপক বেচাকেনা হচ্ছে প্রকাশ্যেই ।

এলাকাবাসীর তথ্যমতে, হাজেরা হান্নান বিএনপির ক্যাডার জহিরুল ইসলাম জহুর ও ক্রসফায়ারে নিহত ক্যাডার মিনিস্টার শাহ আলমের সহযোগী ছিল। বর্তমানে নিজেকে যুবলীগের ব্যানারে সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করে এই সিন্ডিকেট সিদ্ধিরগঞ্জে পাইকারী ও খুচরা মাদক ব্যবসা, অবৈধ তেল ব্যবসা, ইপিজেড নিয়ন্ত্রণ ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিপুল পরিমান অর্থ সম্পদের মালিক বনে গেছেন। দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক ব্যবসায় সাথে জড়িত হান্নান প্রধানের নেতৃত্বে আদমজীর মুনলাইট গার্মেন্টসের পেছনে মাদক কেনা-বেচা ও সেবনের মহোৎসব চলে।

এদিকে হাজেরা হান্নান ওরফে ফেন্সি হান্নান এলাকার কোমলমতি কিশোরদের নিয়ে কিশোরগ্যাং বাহিনী গড়ে তুলেছে। তাদের দিয়ে এলাকায় নানা অপকর্ম করা হচ্ছে হাজেরা হান্নান।

লেখাপড়া না জানা এই টাউট নিজের অপরাধের রাজত্ব ঠিক রাখতে ইদানিং নিজেকে কথিত সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যার ফলে এলাকাবাসীর মনে প্রশ্ন যিনি নিজে ফেন্সী ব্যবসায়ী, যার নামে এত মামলা, নিজের নাম লিখতেও যার কলম ভাঙ্গে সে কিভাবে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেয় ? এসব প্রশ্ন এলাকাবাসীর মুখে মুখে।

সম্প্রতি র‌্যাব-১১ এর একটি টিম সিদ্ধিরগঞ্জে আটি হাউজিং এলাকায় হাজেরা হান্নানের চোরাই তেল ব্যবসার আখড়ায় হানা দেয়। সেখান থেকে ১০ হাজার চোরাই জ্বালানি তেলসহ একটি ট্যাংকলড়ি আটক করা হয়। র‌্যাব বাদী হয়ে হাজেরা হান্নানের বিরুদ্ধে মামলাও করে। এর আগেও একবার অস্ত্রসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল ফেন্সি হান্নান।
এছাড়া হাজেরা হান্নান ওরফে ফেন্সি হান্নানের বিরুদ্ধে ১১টি মামলার তালিকা পাওয়া গেছে। তারমধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এফআইআর নং-৩৩ (২০/১০/২০১৪), এফআইআর নং-১২ (১২/৩/২০১৩), এফআইআর নং-২৯ (১৫/৯/২০০৬), এফআইআর নং-৩৫ (৩৩/৪/২০১৬), এফআইআর নং-১৪ (১১/৫/২০১৩), এফআইআর নং-১৫ (১১/৫/২০১৩), এফআইআর নং-৩২ (২৯/৫/২০০৯), এফআইআর নং-৯ (০৬/১/২০২০), এফআইআর নং-৭ (১৮/৫/২০২০), এফআইআর নং-৪২ (২০/৩/২০২০), এফআইআর নং-৩ (৩/৮/২০২০)। এক সময়ের বিএনপি’র ক্যাডার ফেন্সি হান্নান তার ব্যবসা ঠিক রাখতে ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির গ্রুপে যোগ দিয়েছে বেশ কিছুদিন আগে।

বর্তমানে মতির অন্যতম সহযোগী এই ফেন্সি হান্নান। পুলিশের সুত্রমতে, ফেন্সি হান্নানেরর বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে।
ওদিকে থানা পুলিশের কার্যকরী অভিযান না থাকায় ৬নং ওয়ার্ডে মাদকের ব্যাপক বিস্তার বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসীর।

থানা পুলিশের নামমাত্র অভিযান দিয়ে মাদক ব্যবসা বন্ধ করা যাবে না বলেও তারা জানান। তাঁদের দাবী নাসিক ৬নং ওয়ার্ডকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) অভিযান প্রয়োজন। এক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী।