‘শিশুবক্তা’ রফিকুল ইসলাম মাদানীর মুক্তির দাবি হেফাজতের

প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

রাষ্ট্রবিরোধী ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে আটক ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল ইসলাম মাদানীর (২৭) মুক্তির দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানান সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।

উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে রফিকুল ইসলামকে নেত্রকোণা থেকে আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদস্যরা। তাকে আটকের পর বুধবার (৭ এপ্রিল) হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে মুক্তির এ দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে মাওলানা আজিজুল হক বলেন, ‘অবিলম্বে মাওলানা রফিকুল ইসলামকে মুক্তি দিন। অন্যথায় এ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও আলেম-ওলামার ইজ্জত রক্ষা এবং মসজিদ-মাদরাসা হেফাজতে দল-মত নির্বিশেষে লড়াই করতে আপামর জনগণ সর্বদা প্রস্তুত আছে। কোনো অপশক্তির গুম-খুন বা হুমকি-ধমকিকে নায়েবে রাসূল ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতা পরোয়া করে না।’

আজিজুল হক বিবৃতিতের আরও বলেন, বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত তরুণবক্তা মাওলানা রফিকুল ইসলামকে গতরাতে নেত্রকোণা জেলার নিজ বাড়ি থেকে র‌্যাব পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, ‘রফিকুল ইসলাম একজন জনপ্রিয় ওয়ায়েজ। কুরআন ও হাদিসের আলোকে সমকালীন প্রেক্ষাপট নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেন। তার বয়ানে দেশের কল্যাণে মানুষের অন্তরে ঈমানী চেতনা জাগ্রত হয়। দেশের প্রতি ভালোবাসার তাগিদে জনগণকে অন্যায়-জুলুম ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে জাগ্রত হওয়ার আহ্বান করেন। এটা তার অপরাধ হলে দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে তাকে আইনের আওতায় আনতে পরতেন। কিন্তু কোনো ধরনের পূর্ব মামলা ছাড়া বিনা কারণে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রের অন্যায় কী পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে এটা তার জ্বলন্ত প্রমাণ।’

এদিকে মাদানীকে র‌্যাব পরিচয়ে তুলে নেয়ার প্রতিবাদে বুধবার বিকেলে নেত্রকোনা প্রেসক্লাব ক্যান্টিনে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন হেফাজতে ইসলামের স্থানীয় নেতারা। এ সময় তারা মাদানীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করে বলেন, তাকে মুক্তি না দেয়া হলে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।

রফিকুল ইসলাম মাদানীর বড়ভাই রমজান মিয়া জানান, মাদানী মঙ্গলবার রাতে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ধর্মীয় সভা করে নিজ বাড়িতে আসেন। রাতের খাবার শেষে সবাই ঘুমিয়ে যান। রাত ২টা ২০ মিনিটের দিকে র‌্যাব পরিচয়ে কিছু লোক প্রায় ১৯টি গাড়ি নিয়ে তাদের বাড়ি ঘেরাও করে। পরে রফিকুল ইসলাম মাদানী, তার ভড়ভাই বকুল মিয়া (৩৭) ও তার দূর সম্পর্কের ভাতিজা এনামূল হককে (২৮) তুলে নেয়। পরে বকুল মিয়াকে ওই রাতে ছেড়ে দিলেও অন্যদের আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।

রমজান মিয়ার দাবি, এ সময় মাদানীর ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোনসহ তাদের পরিবারের ছয়টি মুঠোফোন জব্দ করে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ফোনগুলো বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে রফিকুল ইসলামের নি:শর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সদস্য ও জেলা শহরের মালনী এলাকায় জামিয়া ইসলামিয়া হুসাইনিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা আসাদুর রহমান আকন্দ, মাওলানা তোবাইদ কাসেমী, আতাউর রহমান, গাজী আব্দুর রহিম, মাদানীর বড়ভাই রমজান মিয়া, চাচাতো ভাই নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

হেফাজতের নেতারা জানান, রফিকুল ইসলাম মাদানীও তাদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।

জানা গেছে, রফিকুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণায়। থাকেন গাজীপুরে। তিনি নেত্রকোণার পশ্চিম বিলাশপুর সাওতুল হেরা মাদরাসার পরিচালক। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে মাদানী সবার ছোট। তার বাবার নাম মৃত শাহাবুদ্দিন। মাদানী নেত্রকোনার মালনী এলাকায় জামিয়া ইসলামিয়া হুসাইনিয়া মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে পরে ঢাকায় চলে যান। সেখানে লেখাপড়া করাকালেই ‘শিশুবক্তা’ হিসেবে আলোচিত হন।

রফিকুল ইসলামকে আটকের বিষয়ে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (এএসপি) ইমরান খান বলেন, বুধবার ভোরে মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানীকে নেত্রকোণার পূর্বধলা থেকে আটক করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে হস্তান্তর করা হবে।

পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলা হলে অবশ্যই থানা পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হবে।

গত ২৫ মার্চ রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের মোদিবিরোধী মিছিল থেকে রফিকুল ইসলাম মাদানীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে আবার ছেড়ে দেওয়া হয়।

গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকায় রয়েল রিসোর্টে মাওলানা মামুনুল হকসহ এক নারীকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় ফেসবুক লাইভে এসে রফিকুল ইসলাম মামুনুল হকের সমর্থনে কথা বলেন। রফিকুল ইসলামকে আটকের পর বুধবার দুপুরে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী র‌্যাবের নিরাপত্তায় রয়েছে মর্মে নিশ্চিত হয়েছি।‌ অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করছি।’