আর্থিক খাতে কেলেঙ্কারি

এস কে সুর চৌধুরী ও শাহ আলমের ব্যাংক হিসাব তলব

প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী ও বর্তমান নির্বাহী পরিচালক (ইডি) শাহ আলমের ব্যাংক লেনদেনের তথ্য জানতে চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের পাঠানো চিঠি সোমবার সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পৌঁছেছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার এনবিআর বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পাঠিয়েছে। চিঠিতে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের গত ২০১৩ সাল থেকে সব ধরনের লেনদেনের তথ্য জানাতে বলা হয়েছে।

এই দুই জন ছাড়াও এস কে সুর চৌধুরীর স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরী এবং মো. শাহ আলমের দুই স্ত্রী শাহীন আক্তার শেলী ও নাসরিন বেগম এবং তাদের সন্তানদের ব্যাংক লেনদেনের তথ্যও জানতে চাওয়া হয়েছে চিঠিতে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, এনবিআর থেকে তাদের ব্যাংক লেনদেনের তথ্য চাওয়া হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যাপারে কিছু জানে না।

বিদেশে পলাতক দুর্নীতি মামলার আসামি প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের লুণ্ঠনে সহযোগী হিসেবে এস কে সুর চৌধুরী ও শাহ আলমের নাম উঠে এসেছে।

পি কে হালদার রিলায়েন্স ফাইনান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাশেদুল হক বলেছেন, অনিয়ম চাপা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন কর্মকর্তাদের পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা করে দিত রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।

তখন শাহ আলমকে মাসে দেয়া হতো দুই লাখ টাকা করে। আর অনিয়ম-দুর্নীতি ধামাচাপা দিতেন সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী।

পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দী আদালতকে বলেছেন, অনিয়ম চাপা দিতে এস কে সুর ও শাহ আলমসহ কয়েকজনকে পিপলস লিজিং থেকে সাত বছরে সাড়ে ছয় কোটি টাকা ঘুষ দেয়া হয়েছে।

এসব অভিযোগের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ-২ এর নির্বাহী পরিচালকের পদ থেকে শাহ আলমকে সরিয়ে দেয়া হয়।

এসকে সুর চৌধুরী ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে অবসরে যাওয়ার পর তাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টা করা হয়। বর্তমানে তিনি অবসরে রয়েছেন।