বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার আগের সব সিদ্ধান্ত বাতিল ঘোষণা

প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে আগের সব সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর ভর্তি পরীক্ষা কবে হবে তা আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

করোনার কারণে দীর্ঘ এক বছর ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে করোনার প্রাদুর্ভাব কিছুটা কমে যাওয়ায় সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এরইমধ্যে বেশ কিছু কারণে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়। যেখানে বারবার হল খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। 

এমন পরিস্থিতিতে সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দুইটায় অনলাইনে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আসেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সেখানে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৪ মে থেকে পাঠদান শুরু হবে এবং ১৭ মে আবাসিক হল খুলবে বলে জানানো হয়। এর আগে সব ধরনের পাঠদান ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।

সে হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হতে এখনও তিন মাস বাকি। মে মাসের ২৪ তারিখ বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর কবে ভর্তি পরীক্ষা হবে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে আলোচনা হবে। তারপর সিদ্ধান্ত জানানো হবে। সবমিলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসতে আরও প্রায় চার মাস অপেক্ষা করতে হবে। 

এছাড়া, বিসিএস পরীক্ষার আবেদন ও পরীক্ষার তারিখ বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নির্ধারণ করা হবে। স্কুল কলেজ খোলার বিষয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলমান ছুটির পর জানানো হবে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী। 

এর আগে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, করোনাকালে উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সোমবার দুপুর ২টায় শিক্ষামন্ত্রী অনলাইন সংবাদ সম্মেলন করবেন।

গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কয়েক ধাপে বাড়ানোর পর ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

গত ২২ জানুয়ারি করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে গাইডলাইন প্রকাশ করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর। এ গাইডলাইন অনুসরণ করে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়। স্কুল-কলেজগুলোতে ৩৯ পাতার গাইডলাইন পাঠিয়ে বলা হয়, ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে স্কুলগুলো প্রস্তুত করে রাখতে, যাতে যে কোনো মুহূর্তে সেগুলো খুলে দেয়া যেতে পারে।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে গোটা বিশ্বকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের এই প্রতিকূল স্রোতের মুখোমুখি বাংলাদেশও। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মতো বাংলাদেশের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষা খাত। প্রায় ১২ মাস ধরে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। কিছু ক্ষেত্রে অনলাইনে কার্যক্রম চলমান। তবে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম কতটা ফলপ্রসূ হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।