মানবতার আরেক নাম ‘সম্পর্ক শুরু হোক রক্ত দিয়ে’

ছবিতে হাসিমুখে রক্তদান

প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

স্বেচ্ছায় রক্তদান মানুষের জীবনের সবচেয়ে মহৎ কাজ। রক্তদানে বেঁচে যায় মূল্যবান প্রাণ। দুর্ঘটনা কিংবা রোগব্যধিতে যারা বিপদে পড়ে তারাই বুঝে এক ব্যাগ রক্তের কত গুরত্ব। রক্তের অভাবে যাতে কোন মানুষ মারা না যায়, সেই লক্ষ্য নিয়ে সামাজিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান অঙ্গীকার ফাউন্ডেশন চালু করে রক্তদানের একটি ভার্চুয়াল সংগঠন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে যার নাম দেয়া হয় ‘সম্পর্ক শুরু হোক রক্ত দিয়ে’।

‘মানুষের সেবায় আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর চালু হয় এ সংগঠনটি। মানবতার সেবায় এগিয়ে আসে একদল তরুণ-তরুণী। পাঁচ বছরে পদার্পণ করা এ সংগঠনটি এরইমধ্যে আলোচনায় এসেছে। রক্ত দিয়ে বাঁচিয়েছে হাজারো মূল্যবান প্রাণ।



এ বিষয়ে সংগঠনটির কর্ণধার ও অঙ্গীকার ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি শাহজালাল সাব্বির শুভ বলেন, রক্তের অভাবে প্রতিদিনই ঝরছে বহু প্রাণ। বিপদ বলে কয়ে আসে না। তাই প্রয়োজনে যাতে একে অপরকে কিংবা যাদের প্রয়োজন তাদের রক্ত দিয়ে সাহায্য করতে পারি, সেই জন্যই এই সংগঠন।

তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের সংগঠনে দেড় হাজারেরও বেশি সদস্য রয়েছে, যারা সর্বদা অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে সক্রিয় থাকেন। ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রয়োজনে আমরা প্রায় ১ হাজার ব্যাগ ব্লাড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরবরাহ করেছি। মানবসেবার এমন একটি সংগঠনের নেতৃত্বে দিতে পেরে নিজেকে খুব গর্বিত মনে করছি। সামনের দিনগুলোতে সংগঠনটিকে যাতে এগিয়ে নেয়া যায়, সেজন্য নিত্যনতুন সদস্য যুক্ত করতে তরুণদের বিভিন্নভাবে অনুপ্রেরণা দেয়া হচ্ছে।

একটা হৃদয়বিদারক ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাত্রা শুরু হয় সংগঠনটির। ২০১৬ সালের এক ঈদের দিনের ঘটনা। দরিদ্র ঘরের প্রতিবন্ধী সন্তান পারভেজ। হঠাৎ অসুস্থ হন তিনি। স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হলে ফেরত দিয়ে পাঠানো হয় ঢাকায়। পরীক্ষায় রক্তে ক্যানসার ধরা পড়ে। নিয়মিত রক্তের প্রয়োজন হয় তার। তার চাচাত ভাই (বর্তমানে সংগঠনটির সহ-সভাপতি) রক্তের জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা চালালেও ডোনার খুঁজতে ব্যর্থ হন। দ্বরস্থ হয় বিভিন্ন ব্লাডব্যাংকে। তবুও মিলেনি ব্লাড।

উপায় না পেয়ে এক দালালের মাধ্যমে তার ছোই ভাইয়ের জন্য এক ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু এক ব্যাগ রক্তে কোন উন্নতি হয় না রোগীর। এদিকে এক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে আশ্বস্ত করা হয় যে, তারা এখন রক্ত দিলে, ভবিষ্যতে তাদের প্রয়োজনে তারাও সমভাবে রক্ত দিতে আগ্রহী থাকবে। এমন চুক্তিতে শুরুতে রাজি হলেও পরে আর কথা রাখেনি তারা। ওইদিনই ফযরের নামাযের সময় ছেলেটি মারা যায় রক্তের অভাবে। 

এ ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত হন চাচাত ভাই শুভ। বুঝতে পারেন এক ব্যাগ রক্তের কতটা মূল্য। সেসময় তিনি প্রতিজ্ঞা করেন, কোন মানুষকে তিনি রক্তের অভাবে এভাবে আর মারা যেতে দিবেন না। কয়েকজন বন্ধুদের নিয়ে তখন তিনি চালু করেন ভার্চুয়াল সংগঠন ‘সম্পর্ক শুরু হোক রক্ত দিয়ে’।