সংশোধিত পূর্বাভাসে জিডিপিতে ধস কমেছে ব্রাজিলের

প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

করোনায় বিপর্যস্ত ব্রাজিল। দেশটিতে দ্বিতীয় দফায় বেড়েই চলেছে সংক্রমণ। এতে লকডাউন শিথিল থাকলেও ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। তবে নতুন পূর্বাভাসে জিডিপিতে ধস কম দেখছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগের পূর্বাভাসে দেশটির অর্থনীতিতে ধস ৪ দশমিক ৪১ শতাংশ ধরা হলেও এখন তা কিছুটা কমিয়ে ধরা হয়েছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। সিনহুয়া

দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাপ্তাহিক জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের অর্থনীতিতে ধস কমালেও আগামী বছরের জিডিপিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধিও কম দেখছে বিশ্লেষকরা। আগামী বছরের অর্থনীতিতে আগে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরলেও এখন পরিস্থিতি বিবেচনায় সেটি কমিয়ে ধরা হয়েছে ৩ দশমিক ৪৬ শতাংশে। উল্লেখ্য, দেশটির শীর্ষ ১০০ আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে এ জরিপ চালানো হয়।


দেশটির সরকারি তথ্যমতে, প্রথম দফার লকডাউন শিথিলের পর লাফিয়ে বৃদ্ধি পায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। এতে অনেকটা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে দেশটির অর্থনীতি। তবে সম্প্রতি দ্বিতীয় দফায় লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে সংক্রমণ। এতে করে চলতি বছরের অর্থনীতিতে কোনভাবেই ধস এড়াতে সক্ষম হবে না লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতির এ দেশটি।


এদিকে মহামারীর মধ্যেও চলতি বছরে দেশটির মূল্যস্ফীতিতে বড় প্রবৃদ্ধি দেখছে বিশ্লেষকরা। আগের পূর্বাভাসে মূল্যস্ফীতিতে প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ থাকলেও সংশোধিত পূর্বাভাসে সেটি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশে। তবে আগামী বছরে মূল্যস্ফীতির প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ প্রত্যাশা করছে তারা। তবে আগের পূর্বাভাসে এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিলো ৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ।


অর্থনীতিতে ঘুরে দাঁড়াতে বেশকিছু প্রণোদনা প্যাকেজ হাতে নেয় দেশটির সরকার। যার অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংক সুদের হার কমিয়ে ধার্য করা হয়েছে রেকর্ড সর্বনিম্ন ২ শতাংশে। তবে আগামী বছরে অর্থনৈতিক অগ্রগতি বিবেচনা করে ব্যাংক সুদের হার ৩ শতাংশ নির্ধারণের প্রত্যাশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি প্রণেতারা।


চলতি বছরে করোনার কারণে রপ্তানির চেয়ে আমদানি কমিয়েছে ব্রাজিল। যার ফলে সংশোধিত পূর্বাভাসে চলতি বছরে দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ধরা হয়েছে ৫৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে আগের পূর্বাভাসে এর পরিমাণ ধরা হয় ৫৭ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে আগামী বছরে এ উদ্বৃত্ত শুরুতে ৫৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ধরলেও সংশোধিত পূর্বাভাসে ধরা হয়েছে ৫৫ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।