ত্রাণে নয়-ছয় করলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি

ঘরে থাকবেন নাকি কবরে যাবেন সিদ্ধান্ত আপনার: ড. বেনজীর আহমেদ

প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

র‌্যাবের বিদায়ী মহাপরিচালক (ডিজি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ‘সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নাগরিক দায়িত্ব। বল প্রয়োগের চাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নিজেকে, পরিবারকে ও দেশকে রক্ষার স্বার্থে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করা। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা সত্ত্বেও অনেকেই তা লঙ্ঘন করছেন। এখন আপনি ঘরে থাকবেন নাকি কবরে যাবেন এই সিদ্ধান্তটা আপনার।’

সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে র‌্যাব মহাপরিচালক হিসেবে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে শেষ সংবাদ সংম্মেলনে (অনলাইন) এ কথা বলেন তিনি। গত ৮ এপ্রিল র‌্যাবের মহাপরিচালক ড. বেনজীর আহমেদ পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে এ নিয়োগ কার্যকর হবে।

র‌্যাবের বিদায়ী মহাপরিচালক বলেন, ‘সবাই ঘরে থাকবেন আর কেউ কেউ বাইরে থাকবেন এটা হতে দেওয়া হবে না। ন্যূনতম প্রয়োজনে বাইরে যাওয়া, আড্ডা দেওয়া, অনর্থক ঘোরাঘুরি থেকে সবাইকে নিবৃত হওয়ার অনুরোধ জানাই।’

র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, ‘গ্লোবাল ফোবিয়া করোনা মহামারির হুমকি ধনী-গরিব সবার জন্য সমান। তাই সর্বসাধারণের জন্য অনুরোধ থাকবে এই ক্রাইসিসের মধ্যে নিজের কথা ভাবুন, দেশের কথা ভাবুন, পরিবারের কথা ভাবুন, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখুন। এই দায়িত্ব কেবল একার নয়, সবার।’

বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘আমি ঢাকা মহানগর পুলিশে দীর্ঘদিন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে একটি ক্রান্তিকালে র‌্যাব মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বভার দিয়েছিলেন। আমি বিগত পাঁচ বছর তিন মাস মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। র‌্যাবের ন্যায় ও ন্যায্য কাজের প্রতি গণমাধ্যম সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। এজন্য আমি মহাপরিচালক হিসেবে গণমাধ্যম এবং গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।’

বিদায়ী র‌্যাবের প্রধান বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার সময় র‌্যাবের প্রতি মানুষের একটা ভিন্ন ধারণা ছিল। কারণ তার আগে নারায়ণগঞ্জের ঘটনা ঘটেছিল। দায়িত্ব নেবার পর সাধারণ মানুষের মাঝে র‌্যাবের আস্থা ফিরিয়ে এনেছি। মানুষ র‌্যাবকে এখন বিশ্বাস করে এলিট ফোর্স হিসেবে। জঙ্গি, সন্ত্রাস, মাদকে আমরা বড় ভূমিকা রেখেছি। জঙ্গি দমনে আমরা নির্দেশে বাহিনী কর্মকর্তা, সদস্য ঝাপিয়ে পড়েছে। অনেকে জীবন উৎসর্গ করেছে। যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের কোনদিন ভুলব না।

নতুন পুলিশ প্রধান ড. বেনজীর আহমেদ সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন বলেন, ‘আগামীকাল বাংলা নববর্ষ। এবারের নববর্ষের মেজাজ একেবারেই ভিন্ন। করোনা ক্রাইসিস মুহূর্তে আমি সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি এবং সামাজিক তথা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে অনুরোধ করছি।’

ত্রাণে নয়-ছয় করলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
করোনা সংকটে যারা ত্রাণ নিয়ে নয় ছয় করছে, তাদের প্রতি হুঁশিয়ারি জানিয়ে বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘ত্রাণ নিয়ে কোনও প্রকার নয়-ছয় করতে দেবো না। ধরতে পারলে তাৎক্ষণিক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ত্রাণের অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলেছেন। ত্রাণ কিংবা ভিজিপি'র চাল নিয়ে নয় ছয় ধরতে পারলে তাৎক্ষণিক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।’

র‌্যাব ডিজি বলেন, ‘আবার কেউ কেউ এক সের চাল দিতে গিয়ে ২০ জন মানুষকে একত্রিত করছেন। যাদের সাহায্যের প্রয়োজন তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়েও দিয়ে আসা যায়। এতে শৃঙ্খলা থাকে। লোকসমাগম করার তো দরকার নাই।’

সবার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ন্যূনতম প্রয়োজন ছাড়া কোথাও বের হবেন না। এই পরিস্থিতিতে ঘরের বাইরে যাওয়ার চিন্তাও করবেন না। এই মহামারী থেকে রক্ষা পেতে ব্যক্তি সচেতনতা, পারিবারিক সচেতনতা, সামাজিক সচেতনতার, কোনও বিকল্প নেই।’